শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

প্রধান সংবাদ
কলাপাড়ায় গ্রাম পুলিশ সংগঠনের নতুন কমিটি গঠন কলাপাড়ায় স্কুলে হঠাৎ ২৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কলাপাড়ায় সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি; সন্তুষ্ট গ্রাহক রেডিয়েন্ট ইসলামিক মডেল স্কুলে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নের ফল প্রকাশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নি’হ’ত নৌসদস্যের সামরিক মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নৌবাহিনী শিপইয়ার্ডে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হলো টাগবোট ‘টিয়াখালী-৪’ মহিপুরে ১৭৫ পিস ই’য়া’বাসহ দুই মা দ ক ব্যবসায়ী গ্রে’প্তা’র পাখিমারায় রিও’র উদ্যোগে ‘উপকূল পাঠাগার’ কমিটি গঠন আমতলী বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজে নবীন বরণ কলাপাড়ায় বন্দোবস্ত পাওয়া জমিজমার দ’খ’ল ঠেকাতে ভূমিহীনসহ স্থানীয়দের মা ন ব ব ন্ধ ন
কুয়াকাটা সরকারি হাসপাতালে বসে ৫০০ টাকা ভিজিট, টাকা না দিলে মিলছে না প্রেসক্রিপশন

কুয়াকাটা সরকারি হাসপাতালে বসে ৫০০ টাকা ভিজিট, টাকা না দিলে মিলছে না প্রেসক্রিপশন

কুয়াকাটা সরকারি হাসপাতালে বসে ৫০০ টাকা ভিজিট, টাকা না দিলে মিলছে না প্রেসক্রিপশন

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠুঃ কুয়াকাটায় ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের লাঞ্ছিত ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে। শুক্রবার(২৮ আগস্ট) বিকেলে অসুস্থ ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে যান কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের পশ্চিম খাজুরা গ্রামের মোর্শেদা বেগম। তখন তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা ভিজিট দাবি এবং টাকা না দিলে প্রেসক্রিপশন দেওয়া হবে না। এমনকি ‘ভিজিট না দিলে রোগ ভালো হবে না’ বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।

মোর্শেদা বেগমের অভিযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারেননি। শুক্রবার ধার-দেনা করে এক হাজার টাকা সংগ্রহ করে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে ছেলেকে দেখাতে যান। পরে ওই ফার্মেসির সহযোগিতায় পরিচিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বিনামূল্যে কিছু পরীক্ষা করান। পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে সরকারি হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন।

মোর্শেদা বলেন, আমাকে বলা হয়, তার পরামর্শ না নিয়ে কেন টেস্ট পরীক্ষা করিয়েছি।

অন্য জায়গা থেকে রিপোর্ট নিয়ে কেন তার কাছে এসেছি, এ নিয়েও কথা শোনানো হয়। এরপর ৫০০ টাকা ভিজিট দাবি করা হয়। টাকা না দিলে প্রেসক্রিপশন করবেন না এবং রোগী ভালো হবে না বলেও জানানো হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডাক্তারকে টাকা দিতে গেলেই সমস্যা হয়? ফাইজলামি করতে এখানে এসেছেন’এ ধরনের কথা বলে তাকে অপমান ও গালাগাল করা হয়েছে। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা দিনমজুর খালেক অভিযোগ করে বলেন, টাকা ছাড়া তিনি কিছুই বোঝেন না,দুর্ব্যবহার তার নিত্য দিনের সঙ্গী এছাড়াও নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে টেস্ট পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দিয়ে থাকেন তিনি।

কুয়াকাটার বাসিন্দা উখিন চান রাখাইন বলেন, আমার বোনের পা ভেঙে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি (রিয়াজ) বলেন কোনো সমস্যা হয়নি। পরে কোনোমতে পা আটকে দেন।

পরবর্তীতে পায়ে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বরিশালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. রিয়াজ বলেন, আমি তার সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করিনি। তিনি তার বাচ্চাকে নিয়ে আসার পর আমি তাকে চিকিৎসা দিয়ে দিয়েছি।

কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কিশলয় সাহা বলেন, আমি ছুটিতে রয়েছি। বিষয়টি কর্তব্যরতদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে রোগীর কাছ থেকে ভিজিট নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিঞা।

তিনি বলেন, সরকারি উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বে থাকাকালীন হাসপাতালে বসে কোনো ভিজিট নেওয়ার ক্ষমতা নেই। পাশাপাশি তারা সরকার নির্ধারিত অল্প কিছু ওষুধ দিতে পারেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!